সেই মাহদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়
প্রকাশিত হয়েছে : ১১ জুন ২০২৬, ২:২৫:১৪

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : ‘বানিয়াচং থানা জ্বালিয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মেরেছি’ বলে থানার ওসিকে হুমকি দেওয়া হবিগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা মাহদী হাসান এবার থানায় আশ্রয় নিলেন। হুমকি দেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় তিনি নিজেকে বাঁচাতে সদর মডেল থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে চলন্ত রিকশায় বসে নিজের ফেসবুকে একটি লাইভ করেন মাহদী। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন ছাত্রদল কর্মীরা তার ওপর হামলা চালাতে আসছেন।
কিন্তু, ভিডিওতে কাউকে তার ওপর হামলা করতে বা তার পেছনে ছুটতে দেখা যায়নি। পরে তিনি থানা কম্পাউন্ডে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।
সদর থানার ওসি জাহিদ হোসেন জানান, হামলার অভিযোগ সংক্রান্ত ভিডিওতে আমরা ছাত্রদলের কাউকে দেখতে পাইনি এবং তিনি কাউকে সুনির্দিষ্টভাবে দেখাতেও পারেননি। তবে মাহদী আমাদের কাছে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।
ফেসবুক লাইভে মাহদী বলেন, ছাত্রদল আমার ওপর অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পার্সোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পার্সোনাল অধিকার নাই?
লাইভের শেষ দিকে তিনি বলেন, আমি এখন থানাতে আছি। ডিউটি অফিসার সাহেবের রুমে আছি। আমার একটা পরিক্ষা ছিল, ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা। আমি আগেই জানিয়েছিলাম এখানে আমার একটি নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ আছে। তারপরও পরিক্ষার জন্য এসেছিলাম। আসার সময় রিকশায় ছিলাম। তখন পেছন থেকে আমাকে হামলা করার জন্য ধাওয়া দেওয়া হয়। মোটরসাইকেলে করে তাকে ধাওয়া করছে বলে তিনি দাবি করেন।
তবে, ভিডিওর কোথাও তার পেছনে বা সামনে কেউ ধাওয়া করছে বলে দেখাতে পারেননি।
উল্লেখ্য, এ বছরের শুরুতে এক যুবককে গ্রেফতার করে শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ। এরপর ২ জানুয়ারি তাকে ছাড়াতে থানায় যান মাহদী হাসানের নেতৃত্বে একদলশিক্ষার্থী। এক পর্যায়ে মাহদীর নেতৃত্বে তারা ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। ওসির সামনের চেয়ারে বসে গ্রেফতার যুবককে ছেড়ে দিতে বলেন। এ নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে দম্ভ নিয়ে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেফতার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল। এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা তৈরি হলে ৩ জানুয়ারি মাহদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ, তবে সমর্থকদের বিক্ষোভের ফলে ৪ জানুয়ারি তাকে আদালত জামিনে মুক্তি দেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের গুলিতে ৯ জন ছাত্রজনতা শহীদ হন। এ দিন থানায় অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটপাটের ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার হন থানার এসআই সন্তোষ চৌধুরী। তার লাশ একটি গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষকে হত্যায় নিজের জড়িত থাকার কথা চলতি বছরের জানুয়ারিতে থানায় বসে সদম্ভে ঘোষণা করে সমালোচিত হয়েছিলেন মাহদী হাসান।



