logo
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
    • ইউ কে
  • সিলেট
    • মৌলভীবাজার
    • সুনামগঞ্জ
    • হবিগঞ্জ
  • মুক্তমত
  • সারাদেশ
  • প্রবাস
  • ব্যবসা
  • শিক্ষাঙ্গন
  • খেলা
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • বিনোদন
  • আরও
    • লাইফস্টাইল
    • সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • জাতীয়
  • আন্তর্জাতিক
  • ইউ কে
  • সিলেট
  • মৌলভীবাজার
  • সুনামগঞ্জ
  • হবিগঞ্জ
  • সারাদেশ
  • প্রবাস
  • পর্যটন
  • সাহিত্য ও সংস্কৃতি
  • মুক্তমত
  • ব্যবসা
  • শিক্ষাঙ্গন
  • লাইফস্টাইল
  • খেলা
  • তথ্য ও প্রযুক্তি
  • বিনোদন
  • সিলেট মিরর পরিবার
  • যোগাযোগ
  1. প্রচ্ছদ
  2. ইউ কে
  3. ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচন আজ
    বিপর্যয়ের শঙ্কায় লেবার পার্টি, টালমাটাল স্টারমারের গদি

ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচন আজ
বিপর্যয়ের শঙ্কায় লেবার পার্টি, টালমাটাল স্টারমারের গদি


প্রকাশিত হয়েছে : ০৭ মে ২০২৬, ১:১১:১৩

টাওয়ার হ‌্যাম‌লেট‌সের তিন বাংলা‌দেশি প্রার্থী লুৎফুর রহমান, সিরাজুল ইসলাম ও ব‌্যা‌রিষ্টার জা‌মি আলী

লন্ডন প্রতিনিধি : আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) ব্রিটেনের স্থানীয় নির্বাচন। লন্ডনের ৩২টি বরা কাউন্সিল, ৩২টি মেট্রোপলিটন বরা, ১৮টি ইউনিটারি অথরিটিস, ৬টি কাউন্টি কাউন্সিলস, ৪৮টি ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলস এবং সরাসরি ভোটে ইংল্যেন্ডের ৬টি মেয়রপদসহ লোকাল অথরিটির আওতায় ১৩৬টি কাউন্সিলে মোট পাঁচ হাজার ১৪টি কাউন্সিল পদে নির্বাচন হবে।

এই নির্বাচনকে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের টালমাটাল মেয়াদের জন্য একটি ‘গণভোট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের ফলাফল স্টারমারের বিদায়কে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং দেশটির রাজনীতিতে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

ইংল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল এবং স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের আধা-স্বায়ত্তশাসিত আইনসভার এই নির্বাচনে মধ্য-বামপন্থি লেবার পার্টি বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্বল অর্থনীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং স্টারমারের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর জনগণের আস্থাহীনতা লেবার পার্টিকে কোণঠাসা করে ফেলেছে। বিশেষ করে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়া ব্রিটেনের অর্থনৈতিক সংকটকে আরো ঘনীভূত করেছে।

এ ছাড়া স্ক্যান্ডাল-জড়িত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে ব্রিটেনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্টারমারের জনপ্রিয়তায় বড় ধস নামিয়েছে।

জনমত জরিপ বলছে, লেবার পার্টি ইংল্যান্ডের অন্তত আড়াই হাজার কাউন্সিলের অর্ধেকের বেশি আসন হারাতে পারে। এই সুযোগে উগ্র-ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’ তাদের প্রচারণা স্লোগান দিয়েছে-‘রিফর্মকে ভোট দিন, স্টারমারকে বিদায় করুন’।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের অধ্যাপক টনি ট্র্যাভার্স বলেন, ‘এই নির্বাচন কিয়ার স্টারমারের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এক মুহূর্ত। তার বিরোধীরা একাট্টা হচ্ছে এবং অর্থনীতিতে ব্যয় করার মতো পর্যাপ্ত অর্থ সরকারের হাতে নেই।’

নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটলে লেবার পার্টির ভেতরেই স্টারমারের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার কিংবা ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নামের মতো প্রভাবশালী নেতারা নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

অন্যদিকে, স্কটল্যান্ড এবং ওয়েলসের জাতীয়তাবাদী দলগুলোর উত্থান ব্রিটেনের অখণ্ডতার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়েলসে ‘প্লাইড কামরি’ এবং স্কটল্যান্ডে ‘এসএনপি’ বড় জয়ের প্রত্যাশা করছে, যারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করতে পারে।

এ ছাড়া ইংল্যান্ডজুড়ে বিভিন্ন কাউন্সিল, মেয়র ও স্থানীয় নেতৃত্ব নির্ধারণের এই ভোটে শুধু ব্রিটিশ রাজনীতির ভবিষ্যৎ হিসাবই নয়, আলোচনায় রয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক অবস্থান, নেতৃত্বের সংকট এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নও। বিশেষ করে পূর্ব লন্ডনের বাঙালিপাড়াগুলোতে এবারের নির্বাচন দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে বেশি ব্যক্তি প্রভাব, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, কমিউনিটির বিভাজন এবং নেতৃত্বের বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক স্থবিরতার কারণে শুধু ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নয়, প্রচলিত বড় দলগুলোর প্রতিও এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতা আগামী নির্বাচনেও অব্যাহত থাকলে চার ব্রিটিশ বাংলাদেশি এমপির অন্তত দুজন পরবর্তী নির্বাচনে নাও জয়ী হতে পারেন।

মূলধারার দলগুলোর প্রতি বিরক্তি থেকে অভিবাসীসহ বিভিন্ন কমিউনিটির লাখো মানুষ এখন বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির খোঁজ করছে। এর ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্যজুড়ে গ্রিন পার্টির উত্থানও চোখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় নানা ইস্যুতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন ‘প্রটেস্ট ভোটে’ প্রতিফলিত হচ্ছে।

তবে পূর্ব লন্ডনের বাঙালিপাড়ায় এখনও রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বেশি সমর্থন লেবার পার্টির প্রতিই। এমপি নির্বাচনে রোশনারা আলী বা আপসানা বেগমকে ভোট দিলেও মেয়র নির্বাচনে সেই ভোট আর একদিকে থাকে না। দলের ভেতরের ‘শত্রুর শত্রু’ সমীকরণ, স্থানীয় সম্পর্ক কিংবা ‘নিজ এলাকার ভাই’ বিবেচনায় ভোট ভাগ হয়ে যায় অন্য প্রার্থী বা তৃতীয় পক্ষের দিকে। টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ কোন্দল বহু পুরোনো।

টাওয়ার হ্যামলেটস লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা হেলাল আব্বাসকে ঘিরে এখনও দলে অন্তত দুটি বড় বলয় রয়েছে—হেলালপন্থি ও বিরোধী পক্ষ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, গত এক দশকে তিনি নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেয়ে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন কে দলীয় মনোনয়ন পাবেন আর কে বাদ পড়বেন, সেটি নিয়ন্ত্রণে। এমনও অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমানের লেবার পার্টি ছাড়ার পেছনেও তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে।

এবারের লেবার মেয়র প্রার্থীকে হেলাল আব্বাসের ঘনিষ্ঠ মনে করেই তার সমর্থকেরা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। কিন্তু দলের ভেতরে যারা অতীতে হেলাল আব্বাসের বিরোধিতার শিকার হয়েছেন, কিংবা নিজেরাও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তারা এখনও সেই ক্ষোভ বয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও প্রচারণায় ছবি-ভিডিওতে সবাই দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই রয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে দলীয় বাংলাদেশি কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরোধ কোথাও কোথাও সহিংসতাতেও গড়িয়েছে। পরে দলীয় পর্যায়ে সালিসের মাধ্যমে তা মেটানোর চেষ্টাও হয়েছে।

দলের মেয়র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম টাওয়ার হ্যামলেটসের দীর্ঘদিনের কাউন্সিলরদের একজন। কিন্তু মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি লুৎফুর রহমানের ইমেজ বা প্রচারণা কৌশলের ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেননি। আগেরবারের মতো এবারও স্থানীয় মসজিদগুলোর নেতৃত্ব, মুসল্লি এবং ইসলামি সংগঠনগুলোর বড় অংশের সমর্থন লুৎফুর রহমানের পক্ষেই রয়েছে।

তবে এবারের নির্বাচনে একটি নতুন বাস্তবতাও তৈরি হয়েছে। লেবার ও লিবারেল ডেমোক্র্যাটের মতো বড় দুটি দল থেকে প্রার্থীসহ এবার প্রথমবারের মতো চারজন বাংলাদেশি মেয়র প্রার্থী শীর্ষ সাত প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে উঠে এসেছেন। নিঃসন্দেহে এটি ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের একটি বড় রাজনৈতিক অর্জন।

এই নির্বাচনে বাঙালী বংশোদ্ভূত অনেকেই কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই পূর্বে নির্বাচনে জয়ীও হয়েছিলেন।

বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের মধ‍্যে বিপুল সংখ‍্যক নারী প্রার্থীও রয়েছেন। এই প্রার্থীদের মধ‍্যে জোৎস্না ইসলাম, সৈয়দা সায়েমা আহমেদ, সাঈদা চৌধুরী, অজন্তা দেব রায়, সৈয়দা ফেরদৌসী পাশা (কলি), পুষ্পিতা গুপ্তা, স্মৃতি আজাদ, আমিনা আলী, শাহেলা রহমান, রেবেকা সুলতানা, জাসমিন চৌধুরী ও সৈয়দা শিল্পী চৌধুরী প্রচার প্রচারণায় সারা ফেলেছেন ব‍্যাপক।

প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি স্পষ্ট—সবার জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত বাসস্থান, নারী ও তরুণদের ক্ষমতায়ন এবং একটি নিরাপদ, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও কার্যকর কমিউনিটি গড়ে তোলা। তাঁরা বলছেন, শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সবসময় মানুষের পাশে থাকবে তাঁদের উপস্থিতি দৃশ‍্যমান থাকবে।

আজ ৭ই মে, ভোট শুধু একজন প্রার্থীকে নির্বাচিত করবে না—এটি নির্ধারণ করবে কমিউনিটির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।

আজকের এই সময়ে প্রয়োজন এমন নেতৃত্ব, যা অভিজ্ঞতা, সততা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার উপর দাঁড়িয়ে। একটি ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং মানবিক কমিউনিটি গড়ে তুলতে তাঁদের পাশে থাকা সময়ের দাবি।

লেবারের ভেতরের লড়াই, লাভবান লুৎফুর

যুক্তরাজ্য বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের পদধারী নেতারাও এবার প্রকাশ্যে লুৎফুর রহমানের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন। যদিও সাধারণত তাদের রোশনারা আলী বা টিউলিপ সিদ্দিকের পাশে দেখা যায়। কিন্তু এবার তাদের অনেকেই সক্রিয়ভাবে লুৎফুর রহমানের পক্ষে মাঠে রয়েছেন।

অপরদিকে, ব্যারিস্টার জামিরের পাশে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কিছু বড় নেতা থাকলেও তারা নিজেদের সমর্থকদের ভোট দলীয় মনোনীত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কতটা নিতে পেরেছেন, তার উত্তর মিলবে বৃহস্পতিবারের ফলাফলে।

লুৎফুর রহমানের প্রচারণার ধরন এখনও আলাদা। প্রচারণার সময় নষ্ট হবে বলে তিনি কোথাও সাধারণত পানি পর্যন্ত পান করেন না—এমন গল্প তার কর্মীদের মুখে মুখে। কারণ বারবার ওয়াশরুমে যাওয়ার বিরতিতে প্রচারণার সময় নষ্ট হোক, তা তিনি চান না। কিন্তু লুৎফুর রহমানের এই একাগ্র ও কৌশলী প্রচারণার বিপরীতে লেবার প্রার্থী কিংবা ব্যারিস্টার জামিরের প্রচারণায় ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া বা ছবি শেয়ার করা ছাড়া দৃশ্যমান নতুন কোনও কৌশল চোখে পড়েনি।

বরং ‘ইন্ডিপেনডেন্ট’ ঘরানার একটি বাংলাদেশি দলের এক নেতাকে ঘিরে প্রক্সি ভোট বিতর্ক শেষ মুহূর্তে নতুন নেতিবাচকতা তৈরি করেছে। যার রাজনৈতিক সুবিধা নিশ্চিতভাবেই গেছে লুৎফুর রহমানের দিকে। তার মতো শক্তিশালী প্রার্থীর বিপরীতে ভোটারদের আস্থা অর্জনে প্রতিপক্ষরা কতটা সফল বা ব্যর্থ, সেটিই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে ভোটের জনরায়।

এবার ব্যারিস্টার জামিরের নির্বাচন পরিচালনায় যারা রয়েছেন, তাদের অনেকেই একসময় লুৎফুর রহমানের কর্মী ছিলেন। কিন্তু তারা সাবেক নেতা লুৎফুর রহমানের রাজনৈতিক কৌশল কতটা রপ্ত করতে পেরেছেন, তার প্রমাণও মিলবে নির্বাচনের ফলাফলে।

প্রচারযুদ্ধ ও ভোটের বাস্তবতা

আমার ধারণা, ব্যারিস্টার জামিরের লড়াই এখন চতুর্থ কিংবা পঞ্চম স্থানে ওঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ। অথচ তার তৃতীয় হওয়ারও বাস্তব সুযোগ ছিল। সেই সুযোগ হারানোর পেছনে যারা তাকে প্রার্থী করেছেন এবং প্রচারণার নেপথ্যে ছিলেন, তাদের রাজনৈতিক কৌশলগত ব্যর্থতার প্রশ্ন থেকেই যাবে।

একইসঙ্গে সম্ভাব্য এই ব্যর্থতার পর টাওয়ার হ্যামলেটসে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও নৈতিকতাও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় লেবার পার্টির অন্তর্দ্বন্দ্ব ও ধারাবাহিক রাজনৈতিক ব্যর্থতাই বরাবর লুৎফুর রহমানের সাফল্যের অন্যতম নিয়ামক হয়ে থেকেছে।

তবে একইসঙ্গে সমালোচকদের অভিযোগও কম নয়। ভোটের সময় ছাড়া কমিউনিটির মানুষকে এড়িয়ে চলা, অনুগতদের ঘিরে বলয় তৈরি করা কিংবা ক্ষমতার কেন্দ্রে ‘ভৃত্য সংস্কৃতি’ তৈরি করার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা কি সত্যিই ভিন্ন কোনও রাজনৈতিক সংস্কৃতি দাঁড় করাতে পেরেছেন?

কমিউনিটি মিডিয়ার একটি অংশও ক্ষমতার কাছাকাছি অবস্থান নিয়ে সুবিধাভোগের অভিযোগ থেকে মুক্ত নয়। ফেসবুক পেজকে টিভি দাবি করা, অন্যের নিউজ পড়ে ‘ভিউ ব্যবসা’ করা—এমন অভিযোগও রয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীনদের কঠিন প্রশ্ন করার সাহস তারা দেখায় না। ফলে কাউন্সিলের বাড়ি বরাদ্দ, প্ল্যানিং পারমিশন কিংবা কেনাকাটায় কমিশন বাণিজ্যের মতো প্রশ্নগুলো গুঞ্জন হিসেবেই থেকে যায়। যদিও সরকারি পর্যালোচনায় এসব নিয়ে প্রশ্ন আগেও উঠেছে।

প্রতিপক্ষের ব্যর্থতা, লুৎফুরের সুবিধা

শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবারও ভোটকেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা কম। সে কারণেই শুধু লুৎফুর রহমানের জয় নয়, কাউন্সিলেও তার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।

এবার প্রথমবারের মতো লুৎফুর রহমানের পাশাপাশি নিউহ্যাম থেকে লেবার পার্টির মনোনীত বাংলাদেশি ফরহাদ হোসেনেরও মেয়র নির্বাচিত হওয়ার শক্ত সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সারা ব্রিটেনে প্রায় সাড়ে তিনশ বাংলাদেশি বিভিন্ন বরোতে কাউন্সিলর পদে লড়ছেন। চার বছর আগের তুলনায় এবারের নির্বাচনে ব্রিটিশ বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ ও জয়ের সম্ভাবনা—দুটিই বেড়েছে।

তবু প্রায় একই সময়ে ব্রিটেনে যাত্রা শুরু করা ব্রিটিশ পাকিস্তানি বা ভারতীয়দের তুলনায় ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা এখনও অনেক পিছিয়ে। আর এর বড় কারণ বাংলাদেশিরাই।

দলীয় মনোনয়ন না পেলে সম্পূর্ণ ভিন্ন আদর্শের দলে যোগ দেওয়া, নিজেই নতুন দল গঠন করা, ব্যক্তিগত বিরোধে নিজেদের কমিউনিটির প্রার্থীর বিরোধিতা করা—এমন উদাহরণ অসংখ্য।

এই যে টাওয়ার হ্যামলেটসের বর্তমান মেয়র লুৎফুর রহমান—গত দুই দশকে বড় দলগুলোর বাইরে বাঙালিপাড়ায় সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া রাজনীতিক তিনি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এই দীর্ঘ সময়ে তার হাত ধরে কি কোনও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে?

বরং সমালোচকদের প্রশ্ন, নিজের চারপাশে রাজনীতি, যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতায় কাছাকাছি কাউকে তিনি জায়গা দেননি কেন? আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই মেয়াদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলেও কেন নিজের অনুসারীদের শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি? কেন তার সমর্থিত প্রার্থীরা জিততে পারেননি?

সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, তার অনুসারী আহিদ আহমদ বা রাবিনা খান যদি মেয়র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যেতেন, তাহলে হয়তো লুৎফুর রহমানের নিজের ফিরে আসার জায়গা সংকুচিত হয়ে যেত।

গত কয়েকটি সংসদ নির্বাচনেও টাওয়ার হ্যামলেটসের যেকোনও একটি আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ের সম্ভাবনা ছিল তার। কিন্তু সমালোচকদের প্রশ্ন—ইমিগ্রান্ট মুসলিম বা বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে সংসদে সোচ্চার ভূমিকা রাখার চেয়ে তিনি কেন বারবার টাওয়ার হ্যামলেটসের মেয়র পদেই থাকতে চান?

বড় বাজেট, বেশি বরাদ্দ, নতুন প্রকল্প, নিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রভাবের পুরোনো বিতর্ককে চ্যালেঞ্জ করেই বা কেন তিনি এমপি নির্বাচনে যাননি?

এমনকি মেয়র পদ থেকে অপসারণ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কিংবা নির্বাহী ক্ষমতা খর্ব হওয়ার পরও কেন তিনি বারবার এই পদেই ফিরতে চান—এই প্রশ্নও রয়ে গেছে।

তবে তার বিরোধীরা গুঞ্জন ছড়াচ্ছেন, এবার জয়ী হলেও অতীতের মতো পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার সুযোগ হয়তো তিনি নাও পেতে পারেন। সেক্ষেত্রে জেরেমি করবিনের দল বা সম্ভাব্য জোট থেকে বেথনাল গ্রিন অ্যান্ড স্টেপনি আসনে পরবর্তী নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতে পারেন তিনি।

আমি তাকে এবার প্রশ্ন করেছিলাম, মেয়র পদে এটিই কি তার শেষ নির্বাচন? যথারীতি সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গেছেন তিনি।

কিন্তু প্রশ্ন অন্য জায়গায়। যদি ভবিষ্যতে তিনি নির্বাচন না করেন, তাহলে তার জায়গায় জয়ের মতো গ্রহণযোগ্য একজন উত্তরসূরি কেন এখনও তৈরি হয়নি?

নতুন নেতৃত্বের অভাব

ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিতে উৎসাহিত করার বদলে নানা কৌশলে দূরে রাখার সংস্কৃতির অবসান হওয়া দরকার।

সাদিক খানের মতো একজন ব্রিটিশ বাংলাদেশি লন্ডনের মেয়র হবেন, কিংবা ঋষি সুনাকের মতো কোনও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একদিন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হবেন—এমন স্বপ্ন অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ ব্রিটেনে ভারতীয়, পাকিস্তানি ও বাংলাদেশিদের বসতি গড়ার ইতিহাস প্রায় একই সময়ের।

কিন্তু পার্থক্য হলো—ভারতীয় বা পাকিস্তানি কমিউনিটিতে নিজেদের প্রার্থীর জন্য দলীয় বিভাজনের বাইরেও এক ধরনের সমর্থন তৈরি হয়। অন্তত শুধুমাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাঁড় করানোর প্রবণতা সেখানে তুলনামূলক কম।

আর বাংলাদেশিরা?

নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ—এই পুরোনো প্রবাদটি এখনও কি সবচেয়ে বেশি আমাদের ক্ষেত্রেই সত্য নয়?

ইউ কে এর আরও খবর
৪ বছরে যুক্তরাজ্য পেল ৫ প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন বার্নহাম?

৪ বছরে যুক্তরাজ্য পেল ৫ প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন বার্নহাম?

লন্ডনে গ্রেটার বালুচর প্রবাসী সোশ্যাল এসোসিয়েশনের অভিষেক সম্পন্ন

লন্ডনে গ্রেটার বালুচর প্রবাসী সোশ্যাল এসোসিয়েশনের অভিষেক সম্পন্ন

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

ব্রিটেনের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহাম

সৈয়দুপুর শাম‌সিয়া স‌মি‌তির উ‌দ্যো‌গে যুক্তরাজ্যের ৯ জন বিজয়ী কাউ‌ন্সিলার‌কে সংবর্ধনা প্রদান

সৈয়দুপুর শাম‌সিয়া স‌মি‌তির উ‌দ্যো‌গে যুক্তরাজ্যের ৯ জন বিজয়ী কাউ‌ন্সিলার‌কে সংবর্ধনা প্রদান

সর্বশেষ সংবাদ
এসএমপিতে নেতৃত্বে পরিবর্তন, কমিশনার হলেন ডিআইজি সারোয়ার মুর্শেদ শামীম
এসএমপিতে নেতৃত্বে পরিবর্তন, কমিশনার হলেন ডিআইজি সারোয়ার মুর্শেদ শামীম
৮ বছর পর আবারও সাফ আয়োজন করতে চলেছে বাংলাদেশ
৮ বছর পর আবারও সাফ আয়োজন করতে চলেছে বাংলাদেশ
আটক হওয়ার পর এখন কোথায় আছেন রাহুল গান্ধী?
আটক হওয়ার পর এখন কোথায় আছেন রাহুল গান্ধী?
<span style='color:#ff0000;font-size:16px;'>আগস্টে চুক্তি</span> <br> এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার
আগস্টে চুক্তি
এবার এয়ারবাসের ১০ উড়োজাহাজ কিনছে সরকার
৪ বছরে যুক্তরাজ্য পেল ৫ প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন বার্নহাম?
৪ বছরে যুক্তরাজ্য পেল ৫ প্রধানমন্ত্রী, পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারবেন বার্নহাম?
প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিটসহ বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হবে : বিমানমন্ত্রী
প্রবাসী কার্ডধারীদের জন্য বিমান টিকিটসহ বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হবে : বিমানমন্ত্রী
লন্ডনে গ্রেটার বালুচর প্রবাসী সোশ্যাল এসোসিয়েশনের অভিষেক সম্পন্ন
লন্ডনে গ্রেটার বালুচর প্রবাসী সোশ্যাল এসোসিয়েশনের অভিষেক সম্পন্ন
<span style='color:#ff0000;font-size:16px;'>৪ জন খালাস</span> <br> এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
৪ জন খালাস
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণকাণ্ডে ১ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন
স্পেনে ভয়াবহ দাবানল : বিদেশিসহ নিহত অন্তত ১২, নিখোঁজ ২৩
স্পেনে ভয়াবহ দাবানল : বিদেশিসহ নিহত অন্তত ১২, নিখোঁজ ২৩
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার
কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি প্রত্যাহার
মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ভেসে উঠলো এক লাশ
মৌলভীবাজারে বন্যার পানিতে ভেসে উঠলো এক লাশ
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত
খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স
ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা শেখ হাসিনার: রয়টার্স
ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
ডলারের বিপরীতে পাউন্ডের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়া মিসরকে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা
আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়া মিসরকে রাষ্ট্রীয় সংবর্ধনা

© 2023 Sylhetmirror.com All Rights Reserved

সম্পাদক: মোহাম্মদ আব্দুল করিম (গণি)
নির্বাহী সম্পাদক: এনামুল হক রেনু

সিলেট মিরর পরিবার

Office: Unit 2, 60 Hanbury Street London E1 5JL

sylhetmirror@gmail.com

Developed by: Web Design & IT Company in Bangladesh

Go to top