বৈশাখের তাপে বাজারও গরম
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০২:১০

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার কথা বললেও বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানি থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেল দেয় না। তাই দোকানে নেই। বিক্রি করব কী? তাই সংকট কাটছে না। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দামও ডজনে ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকা ছুঁয়ে গেছে। বৈশাখের প্রচণ্ড তাপের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সবজির বাজারও গরম হয়ে গেছে। অধিকাংশ সবজির কেজি সেঞ্চুরির ঘরে। পেঁয়াজের দামও কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে ৫৫ টাকা ছুঁয়ে গেছে। তবে সোনালি মুরগির দাম কমে ৩৮০ টাকায় নেমেছে।
রাজধানীর (২৪ এপ্রিল) মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজার, হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) জানায়, সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা সয়াবিন তেল, মাঝারি চাল, খোলা আটা, ডিম, শসার দাম বেড়েছে। রমজান মাসের শুরুতে বেগুন, শসাসহ অনেক সবজির দাম বেড়ে যায়। ঈদের পর এসব সবজির দাম কিছুটা কমে। কিন্তু গতকাল বিভিন্ন বাজারে দেখা গেছে, রমজানের মতোই অধিকাংশ দোকানে কাঁকরোল ১২০ টাকা কেজি, বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পটোল ১৪০, শজনেডাঁটা ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢ্যাড়স ৭০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগের মতোই শসা ও ক্ষীরার কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, দেশি শসা ১০০, কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৬০, টমেটো ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়। গ্রীষ্মকালের সবজি ঝিঙা, চিচিঙা চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার কমে মেলে না। অন্য সবজিও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা পেঁপেও ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. জসিমসহ অন্য বিক্রেতারা খবরের কাগজকে জানান, ‘রমজান মাসের আগে অধিকাংশ সবজির দাম চড়ে যায়। তার পর আর কমে না। কাঁকরোলসহ সব সবজিই আড়তে বেশি দামে কেনা। তা হলে কম দামে কীভাবে বিক্রি করব? এ সময় শাহজাহান রোডের মো. তাজুল ইসলাম নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘কাঁচা পেঁপের কেজি ৬০ টাকা! এত দাম। খাব কি?’ অন্য ভোক্তারাও বাজার লাগামহীন হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বেড়েছে ডিমের দাম, কমেছে সোনালি মুরগির
আগের সপ্তাহে ডিম ১১০ টাকা ডজন বিক্রি হলেও গতকাল ২০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় ঠেকেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলেন, প্রচণ্ড গরমে সরবরাহ কিছুটা কম। এ জন্য দাম বাড়তি। বেশি দামে কেনা। তাই লাল ডিম ১৩০ টাকা ও সাদা ডিমের ডজন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সোনালি মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। আগে বেশি দামে বিক্রি করা হলেও গতকাল তা ৩৮০ থেকে ৩৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।
এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের রমজান আলী বলেন, ‘সোনালির দাম কিছুটা কমেছে। তাই কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। তবে ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি, দেশি মুরগি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১১৫০ থেকে ১২০০ টাকায় বিক্রি হয়। রুই ও কাতল মাছও ৩৬০ থেকে ৬০০ টাকা, কাজলি, ট্যাংরাসহ নদীর অন্যান্য মাছ ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা, তেলাপিয়া মাছ ২২০ থেকে ২৫০ টাকা কেজি, পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।’
উধাও ৫ লিটারের সয়াবিন তেল
রমজান মাসের শুরু থেকেই ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট শুরু হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী বারবার বলার পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে না। ১ লিটারের বোতলজাত তেল ১৯৫ টাকায় মিললেও ৫ লিটার বাজার থেকে হাওয়া হয়ে গেছে। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানির লোকেরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর জন্যই আমাদের দিচ্ছে না। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের তাহের স্টোরের আবু তাহের খবরের কাগজকে বলেন, অনেক দিন ধরেই ৫ লিটারের তেল নেই। কোম্পানি থেকে দেয় না।
মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারের মনির স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. আনোয়ার, এলবি স্টোরের মো. লুৎফর রহমানসহ অন্য খুচরা বিক্রেতারা খবরের কাগজকে বলেন, ‘টাকা দিয়েও ৫ লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যায় না। বিক্রি করব কীভাবে? কোম্পানি থেকে দিচ্ছে না বেশ কিছু দিন ধরে।’
পেঁয়াজের ভরা মৌসুম চললেও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে পাবনা ও রাজশাহীর ভালো মানের পেঁয়াজ ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে ফরিদপুরের পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা, আদার কেজি ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, রসুন ১২০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়। মিনিকেট চালের দাম ৭০ থেকে ৮৫ টাকা কেজি, আটাশ ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।



