চামড়ার বাজারে ধস, লোকসানের মুখে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মে ২০২৬, ১২:৪৪:১০

সরকার নির্ধারিত মূল্য বাড়িয়েও কোনো সুফল মিলল না এবারের কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে। প্রতি বছরের মতো এবারও চামড়ার ন্যায্য দাম না পেয়ে চরম হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। বাজারে চামড়ার সরবরাহ বাড়লেও সিন্ডিকেটের কারণে পানির দরে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
কোরবানির পশুর চামড়ার মৌসুমে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব এলাকায় চামড়া বেচাকেনা জমে উঠলেও দামে চরম অস্থিরতা দেখা গেছে। সাভারসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে চামড়া কিনে সায়েন্সল্যাবে এনে বিক্রি করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়েছেন অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ক্রেতারা সিন্ডিকেট করে একজোট হয়ে কম দাম হাঁকাচ্ছেন। সাভারের একটি ডেইরি ফার্ম থেকে প্রতিটি চামড়া ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা দরে কিনে সায়েন্সল্যাবে এনেছিলেন আমিন ও সোবহান নামের দুই মৌসুমি ব্যবসায়ী। সেখানে ক্রেতারা প্রতি পিস চামড়ার দাম মাত্র ৫০০ টাকা বলায় তারা বিপাকে পড়েন। আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ৭০০ টাকায় চামড়া কিনে আনার পর এখানে ৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বলছে। ১ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষা করেও কোনো লাভ করতে পারলাম না।’
একই ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন মিজানুর রহমান নামের আরেক ব্যবসায়ী। তিনি প্রায় সাড়ে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা খরচ করে ১০০ পিস গরুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু সায়েন্সল্যাবে সব ক্রেতাই তার চামড়া ৫০০ টাকা পিস হিসেবে কিনতে চায়। ব্যবসায়ী সোবহান সরকারকে এই সিন্ডিকেট ভাঙার জোর অনুরোধ জানান।
তবে এই মন্দা বাজারের মধ্যেও কেউ কেউ সামান্য লাভে চামড়া বিক্রি করতে পেরেছেন। মোহাম্মদপুর এলাকার একটি মাদ্রাসা থেকে ২০টি চামড়া কিনে আনা জাকির হোসেন জয় জানান, তিনি ৫০ থেকে ১০০ টাকা সামান্য লাভে বড় গরুর চামড়া ৭০০ টাকা করে বিক্রি করতে পেরেছেন।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, বিকেলের পর চামড়ার দাম আরও দ্রুত পড়তে থাকে। একটা পর্যায়ে ভালো মানের কিছু কাঁচা চামড়া প্রতি পিস মাত্র সাড়ে ৩০০ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে। সরবরাহ বেশি হওয়া এবং ট্যানারি পর্যায়ে প্রত্যাশিত চাহিদা না থাকায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ কাঁচা চামড়া সংগ্রাহকদের দ্রুত চামড়া বিক্রি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সকালে কোরবানি দেওয়া পশুর চামড়া সন্ধ্যার পর থেকেই নষ্ট হতে শুরু করে। কাঁচা চামড়ায় দ্রুত ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে, ফলে এর গুণগত মান কমে যায় এবং স্বাভাবিকভাবেই দাম পড়ে যায়।’ তিনি আরও জানান, ট্যানারি মালিকদের মূল পরিকল্পনা সরকার নির্ধারিত দামে লবণযুক্ত চামড়া কেনার, তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা কিছু কাঁচা চামড়াও কিনছেন।
বাস্তব চিত্রের সাথে সরকারের নির্ধারিত মূল্যের কোনো মিল খুঁজে পাচ্ছেন না মাঠ পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা। উল্লেখ্য, সরকারের নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম ৬২ থেকে ৬৭ টাকা (যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা)। ঢাকার বাইরে এই দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ge ৬২ টাকা। এছাড়া খাসির প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়া ২৫ থেকে ৩০ টাকা এবং বকরির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের দাবি, সরকার কাগজে-কলমে দাম বাড়ালেও ট্যানারি মালিকদের পক্ষ থেকে সেই দামে চামড়া কেনার কোনো নিশ্চয়তা তারা পাননি। ট্যানারি মালিকরা গত বছরের তুলনায় কম দাম দেওয়ায় মৌসুমি ব্যবসায়ীরা পুঁজি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।



