দ্রুতই সমাধান হবে তার গুমের রহস্য: চিফ প্রসিকিউটর
ইলিয়াস আলী গুমের ১৪ বছর আজ
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:০৩:৩৫

দ্রতই সমধান হবে ইলিয়াস আলীর গুমের রহস্য বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। গতকাল নিজ দপ্তরে সাংবাদিকেদের এই কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইলিয়াস আলী অত্যন্ত প্রিয় নেতা এবং সিলেট বিভাগের অহংকার। তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা ইলিয়াস আলী ১৭ তারিখ মধ্যরাতে এপ্রিলের অথবা ১৮ তারিখ ২০১২ সালে তিনি বনানীর একটি রাস্তা থেকে কিডন্যাপ হয়। তাকে অপহরণ করার আগে ১৪ই এপ্রিল সিলেটের দুইজন ছাত্রদল নেতা যার মধ্যে একজন হচ্ছে ইফতেখার আহমেদ দিনার এবং অপরজন জুনায়েদকে অপহরণ করা হয়েছে। এই দুইজনকে অপহরণ করার দুই সপ্তাহের ভেতর ইলিয়াস আলীকে অপহরণ করা হয়। তাই এই দুইটার ভিতর একটা যুগসূত্র আমরা খুঁজে পেয়েছি। ১৭ বা ১৮ এপ্রিল টেলিফোনে যে কথাবার্তা হয় সেখান থেকে ৮টি টেলিফোনের সিডিআর রেকর্ড আমরা সংগ্রহ করি। আমরা দেখতে পাই যে এই নাম্বারগুলো থেকে যে কলগুলো হয়েছিল এবং সেখানে যে কথোপকথন হয়েছিল সেগুলো অনেকটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছিল আমাদের কাছে। এছাড়া সেই ফোনগুলো যাচাই করে আমরা সেইখান থেকে জানতে পারি ফোনগুলো যারা ব্যবহার করেছে সেদিন তারা ইলিয়াস আলীকে ফলোও করেছিল।
তিনি আরও বলেন, জিয়াউল আহসানের যে মামলাটা চলছে সেখানে কিছু কিছু সাক্ষীর বক্তব্য থেকে আমরা ইলিয়াস আলীর গুমের কানেকশনের এভিডেন্স ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছি। হয়তো জিয়াউল আহসানের মামলায় আরও যারা সাক্ষী হিসেবে ভবিষ্যতে আসবে, আমরা বিশ্বাস করি তাদের সাক্ষ্য থেকেও আমরা কিছু তথ্য পাবো।
চিফ প্রসিকিউটর আরও বলেন, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) তৎকালীন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে আমরা গ্রেফতার করেছি। আইসিটি তদন্ত সংস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। পুলিশের ডিবিও জিজ্ঞাসাবদ করেছে। তার কাছ থেকেও কিন্তু ইলিয়াস আলীর গুম সংক্রান্ত কিছু কানেকশন পেয়েছি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ইলিয়াস আলীর এই তদন্তের বিষয়ে আমরা খুব জোরদার তৎপরতা চালাচ্ছি। আমরা বিশ্বাস করি যে ইলিয়াস আলীর তদন্তটি একটা কনস্ট্রাকটিভ। তদন্তের শেষে আমরা এই বিষয়ে হয়তো একটি রিপোর্ট সাবমিট করতে সক্ষম হব এবং এটাও আমরা বিশ্বাস করি যে তার গুমের তদন্তের শেষে প্রকৃত ঘটনাটা উদঘাটন করতে পারব।
পরিবারের কাউকে সাক্ষী করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, হ্যাঁ, পরিবারের সাক্ষী তো স্বাভাবিকভাবেই নেয়া হবে। তার রাজনৈতিক সহকর্মী যারা আছেন এবং ঐদিন তিনি যে হোটেল থেকে বেরিয়ে আসছিলেন সেখানে যারা ছিলেন সবাইকে সাক্ষী করা হবে। আমরা অনেক তথ্যই পাচ্ছি। কিন্তু এখনই তদন্তের স্বার্থে ডিসক্লোস করতে পারবো না।
এর আগে, ২০১২ সালের এপ্রিল মাসের শুরুতে ঢাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির দুই নেতা। তাদের সন্ধান দাবিতে সোচ্চার হওয়ার দুই সপ্তাহের মাথায় ঢাকার বনানী থেকে নিখোঁজ হন তৎকালীন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেট জেলার আহ্বায়ক এম ইলিয়াস আলী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন গাড়িচালক আনসার আলী। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিখোঁজ চারজনের পরিবার তাদের ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী হয়ে উঠেছিল। আজ ইলিয়াস আলীর গুমের ১৪ বছর হয়ে গেলো। এখনও কাটেনি তার গুমের রহস্য।
এদিকে দেশের গণমাধ্যমে খবর হয়েছে শেখ মামুন খালেদের নকশাতে বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের এ তথ্য দিয়েছেন মামুন খালেদ নিজেই।
ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে শেখ মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের কাছে বারবার নিজেকে নির্দোষ দাবি করলেও জেরার একপর্যায়ে স্বীকার করেছেন গুমের অভিযানের সময় ডিজিএফআইর দুজন মেজর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিষয়টি আগে থেকেই জানতেন। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ইলিয়াস আলী গুমের পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে র্যাব। ঘটনার আগে ও পরে মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও র্যাবের তৎকালীন ডিজির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন শেখ হাসিনা। র্যাব-১কে দিয়ে তুলে আনা হয় ইলিয়াস আলী ও তার ব্যক্তিগত গাড়িচালককে। ওই অভিযানে থাকা কর্মকর্তাদের অনেকে এখনো দেশেই অবস্থান করছেন, এমন দাবিও করেছেন মামুন খালেদ।
গোয়েন্দা সূত্র বলছে, ডিজিএফআইর তৎকালীন মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের নকশাতেই এম ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়। ২০১২ সালে ঘটনার ওই রাতে মামুন খালেদের দিকনির্দেশনা অনুযায়ী, ডিজিএফআই ও র্যাবের বিশেষ দল ইলিয়াস আলীকে গুম করে।



