‘আমার ধান খেয়ে ফেলছে বাবুই পাখি, আমি খাব কি-তাই ধ্বংস করেছি’
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২:০০:৪৫

চট্টগ্রাম ব্যুরো : তাল গাছে বসবাস করে আমার ধান খেয়ে ফেলছে বাবুই পাখিরা। তাই পাখিদের বাসা ধ্বংস করেছি। আমার ফসল পাখি খেয়ে নিলে আমি খাবু কি? এমন কথাগুলো বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুককে বলেছেন বাবুই পাখির বাসা ধ্বংস করে আলোচনায় আসা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি বাচা মিয়া (৪৮)।
তিনি উপজেলার পোপাদিয়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। তাকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে তবে বিষয়টি আলোচনায় আসে বৃহস্পতিবার। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে আমলে নিয়ে অভিযানে নামে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে , চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ধান খাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাবুই পাখির বাসা ভেঙে ছানা ও ডিম ধ্বংসের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর টনক নড়ে প্রশাসনের। বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান ফারুক সরেজমিনে অভিযান চালিয়ে উপজেলার পোপাদিয়া এলাকার বাচা মিয়াকে (৪৮) পাখি ধ্বংসের অপরাধে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
ইউএনও মেহেদী হাসান ফারুক বলেন, বাচা মিয়া বারবার বলেছেন বাবুই পাখি তার ধান খেলে ফেলে। এ কয়েকটি পাখি আর কি পরিমাণ ধান খাবে? ধান ঘরে তুলতে যেটুকু সময় লাগে এতে একমণ ধানও খেতে পারবে না পাখিগুলো। কিন্তু এ কারণে এতগুলো পাখিকে হত্যা করেছেন কেন? এতে আপনার অপরাধ হয়নি? এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি একটু অনুতপ্ত হন। পরে তিনি ক্ষমা চেয়েছেন। ভুল হয়ে গেছে বলে স্বীকার করেছেন।
ইউএনও জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ২৯টি মৃত বাবুই পাখির ছানা এবং ভাঙা ডিম পাওয়া যায়। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১৩-এর ৩৮ ধারা অনুযায়ী তাকে এ দণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাজতে রয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধান খাওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি তালগাছ থেকে বাবুই পাখির একাধিক বাসা ভেঙে ফেলেন। এতে ছানা ও ডিম ধ্বংস হয়। বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশবাদীদেরও ভাবিয়ে তুলেছে। ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সবাই বিরূপ মন্তব্য করেছেন।
চট্টগ্রাম বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা নুর জাহান বলেন, বাবুই সাধারণত তাল, নারিকেল ও খেজুর গাছে ঝুলিয়ে বাসা তৈরি করে। অনেকেই ভুল ধারণা থেকে মনে করেন, এই পাখি ফসলের ক্ষতি করে। কিন্তু বাস্তবে এটি ক্ষতিকর পোকামাকড় খেয়ে কৃষকের উপকারই বেশি করে। বিশ্বে প্রায় ১১৭ প্রজাতির বাবুই পাখি থাকলেও বাংলাদেশে মাত্র তিন প্রজাতি দেখা যায়, যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয় ও নির্বিচার শিকারের কারণে এই পাখির অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশের আইনে বাবুই পাখি সংরক্ষিত প্রাণী হিসেবে তালিকাভুক্ত। তাই এটি হত্যা বা ক্ষতি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।



