পরিস্থিতি খারাপ হলে প্রবাসীদের দেশে ফেরানো হবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ মার্চ ২০২৬, ৯:০৭:৫০

সিলেট ব্যুরো : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে এর প্রভাব রেমিট্যান্সে পড়তে পারে। প্রবাসী শ্রমিকদের স্বাভাবিক কর্মপরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের দেশে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
রোববার দুপুরে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক কাজে যেতে পারছেন না এবং বিভিন্ন স্থানে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রথম দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদ রাখতে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রবাসী শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু করেছে। কেউ আহত হলে তাকে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া, প্রয়োজন হলে খাদ্য ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করা এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। এই কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিদিন মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
প্রবাসে বাংলাদেশের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, যেসব শ্রমবাজার বিভিন্ন কারণে বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলো পুনরায় চালুর জন্য সরকার কাজ করছে। তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মধ্যপ্রাচ্যে তা দ্রুত সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প হিসেবে পূর্ব এশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলে নতুন শ্রমবাজার খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রমজান মাস ও চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ কার্যক্রম কিছুটা ধীরগতিতে চলছে। তবে আগামী মাস থেকে এতে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এর আগে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, সরকারি সম্পদ বিশেষ করে বালু ও পাথর লুটপাট বন্ধ করা এবং পরিবেশ রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, অপরাধীদের কোনো দল নেই এবং কেউ যদি ক্ষমতাসীন দলের সদস্যও হন, অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে সমানভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় সিলেট জেলার বিভিন্ন সমস্যা, বিশেষ করে ছিনতাই ও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এমরান আহমদ চৌধুরীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



