সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে লন্ডনে দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ বইমেলা সম্পন্ন
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ জুন ২০২৬, ৪:১১:২৬

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, যুক্তরাজ্য : প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার ভিড়ে থেকেও যখন আমরা নিজেদের ভাষা, সাহিত্য আর সংস্কৃতির শেকড় খুঁজে ফিরি, তখন লন্ডনে বাংলাদেশ বইমেলার মতো আয়োজন আমাদের কাছে হয়ে ওঠে প্রাণের উৎসব। বিলেতে ফুটে উঠে যেন একখন্ড বাংলাদেশ।
২৭ ও ২৮ জুন দুদিনব্যাপি বই মেলা অনুষ্ঠিত হয়।
পূর্ব লন্ডনের ব্রেডি আর্টস সেন্টারে বহুল প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ বইমেলা ২০২৬। প্রতিদিন অপরাহ্ন ১ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত বই মেলা চলে। বিপুল সংখ্যক লেখক, পাঠক ও দর্শকদের উপস্থিতি ছিল লক্ষ্যনীয়।
এ বই মেলার আয়োজনে ছিল সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য ।
প্রথম দিন দুপুরে একুশে পদকপ্রাপ্ত , আবৃত্তিশিল্পী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী সহ যুক্তরাজ্যের অনেক গুণী লেখকদের উপস্থিতিতে বইমেলার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্যের বর্তমান সভাপতি কবি মোহাম্মদ ইকবাল জানান- এই সংগঠন, যা প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই প্রবাসী বাঙালির সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হয়ে আছে।

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১০ সালে। তখন বিলেতের একঝাঁক কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব একত্র হয়ে সিদ্ধান্ত নেন, প্রবাসে থেকেও বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা জিইয়ে রাখতে হবে, পরবর্তী প্রজন্মকে শেকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখতে হবে। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে দুদিন ব্যাপী এই বইমেলা।
সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ যুক্তরাজ্য এর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয় জানান – লেখক পাঠকদের উপস্থিতিতে বইমেলাকে রঙিন করে তোলে বইমেলা হয়ে ওঠেছে। এটি শুধু বই কেনাবেচার স্থান নয়, বরং সাহিত্য, সংস্কৃতি ও প্রবাসী জীবনের এক বৃহৎ উৎসব।
বাংলাদেশ বইমেলা শুধু পাঠক আর লেখকের মিলনমেলা নয়; এটি গড়ে উঠেছে প্রবাসী জীবনের স্মৃতি, অভিজ্ঞতা আর নতুন প্রজন্মকে ভাষা ও সাহিত্যের সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অনন্য উদ্যোগ হিসেবে।
বইমেলা ঘুরে দেখা গেছে – বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের নামকরা প্রকাশনী এখানে স্টল সাজায়। অনেকগুলো নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে। লেখকের সঙ্গে পাঠকের সরাসরি আলাপ হয়। মুক্তমঞ্চে চলে কবিতা পাঠ, সাহিত্য আলোচনা, সংগীত।
প্রথমদিনে লন্ডনের এই বই মেলায় এসে ঘুরে ঘুরে বই কিনে বাংলা মিরর সম্পাদক আব্দুল করিম গণি বলেন- বই হলো আমাদের মনের খোরাক, জ্ঞানের ভান্ডার। তিনি বলেন তরুণ লেখকদের বই কিনেছি কারণ তাদেরকে অনুপ্রাণিত করা, উৎসাহ দেওয়া। তবে সবগুলো বই অবসরে একটা একটা করে পড়বো।

এভাবেই লন্ডনের এ বইমেলা হয়ে ওঠে প্রবাসী পরিবারের জন্য এক মিলনমঞ্চ, যেখানে সবাই খুঁজে পান নিজের শেকড়ের টান।
এ মেলার আরেকটি বিশেষ দিক হলো প্রতি বছরের ন্যায় গুণী একজন কবিকে সাহিত্য পদক ২০২৬ প্রদান করা হয়। এবছর সাহিত্য পদক ২০২৬ পেয়েছেন কবি মাশূক ইবনে আনিস।
সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্য থেকে এবছর গুণীজন সম্মাননা ২০২৬ পেয়েছেন গবেষক ফারুক আহমদ ।
এছাড়া বেস্ট পারফর্মিং মেম্বার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেয়েছেন উপস্থাপক হেনা বেগম ও নুরজাহান শিল্পী।
বই মেলায় আলোচনা, সেমিনার, আবৃত্তি, গান সহ নানা আয়োজনের ফাঁকে ফাঁকে অনুষ্ঠিত হয় নতুন নতুন বই এর মোড়ক উন্মোচন।
কবি আসমা মতিন এর উপন্যাস “ পরী কাহিনী” গ্রন্থের ও কবি জান্নাতুল ফেরদৌস ডলির কাব্য গ্রন্থ “ মনের সীমানা নেই” এ গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন হয়। এরকম আরো অনেক গুলো নতুন প্রকাশিত গ্রন্থের মোড়ক উম্মোচন হয় এই বই মেলায়।
শেষের দিনের সাঁঝের বেলায় শেষ আকর্ষণ ছিল- ভারতীয সংগীতশিল্পী সাহানা বাজপেয়ী।
শিল্পী সাহানা বাজপেয়ী মন উজার করে অনেক গুলো বাংলা পরিবেশন করে। হলভর্তি দর্শকদের উপস্থিতিতে ছিল পিনপন নিরবতা। আর গান গাইতে গাইতে বই মেলায় আগত দর্শকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ বই মেলা ২০২৬ সম্পন্ন হয়।



