বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৬তম দিবস
লন্ডনে স্বাধীনতা মঞ্চের উদ্যোগে গানে গানে উদযাপিত
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:০৭:৪১

মুহাম্মদ শাহেদ রাহমান, যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি : জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এবং শহীদদের স্মরণ করে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার ৫৬তম দিবস উপলক্ষে লন্ডনে স্বাধীনতা মঞ্চের উদ্যোগে গানে গানে উদযাপিত হলো এক আবেগঘন সাংস্কৃতিক আয়োজন।
বিলেতে বসবাসরত মুক্তিযোদ্ধাদের মঞ্চে আমন্ত্রণ জানিয়ে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়, এবং তাদের মঞ্চে রেখে রনাঙ্গনে তাঁদের অদম্য সাহস, আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে নীরবে তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সেই মুহূর্তে যেন লন্ডনের প্রবাসী প্রাঙ্গণেও ফিরে আসে মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতি, যে স্মৃতির ভেতর জড়িয়ে আছে বাঙালির স্বাধীনতার অমর গৌরবগাথা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পূর্ব লন্ডনের একটি হলে স্বাধীনতা মঞ্চের আয়োজনে হলভর্তি দর্শকদের উপস্থিতিতে—
প্রবাসে থেকেও মাতৃভূমির ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বীর শহীদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে অনুষ্ঠিত হয় “গানে গানে স্বাধীনতা দিবস” উদযাপন অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই বিলেতে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতা মকবুল চৌধুরী নির্মিত একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয়। এ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন প্রদান করে ছোট্ট শিশু অয়ন। কবিতা আবৃত্তি করেন মুনিরা পারভিন, স্মৃতি আজাদ ও সালাউদ্দিন শাহীন।
এরপর শুরু হয় সংগীত পরিবেশনা। শিল্পীরা একে একে পরিবেশন করেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অমর গান, মুক্তিযুদ্ধের রণসঙ্গীত এবং দেশাত্মবোধক বিভিন্ন সংগীত।
সঙ্গীত পরিবেশন করেন, খ্যাতিমান সঙ্গীত শিল্পী গৌরি চৌধুরী, বাউল শহীদ, লাবনী বড়ুয়া, শাহনাজ সুমি, মোহনা, রুবি সরকার, মিষ্টি তালুকদার, তারেক হাসান, বন্যা তালুকদার, অমিত দে, সিগ্ধা রায়, অবলা, শ্রেয়সী, মৃদুল, জয়, শুভাঙ্গী, সাদমান খান প্রমূখ।
স্বাধীনতা মঞ্চের দুই সংগঠকের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত উপস্থাপনা করেন অন্যতম সংগঠক ঊর্মি মাজহার।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরেক সংগঠক সিনিয়র সাংবাদিক এবং সাপ্তাহিক সত্যবাণী সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা।
তার বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ আমরা শুধু একটি দিন উদযাপন করতে এখানে সমবেত হইনি, আমরা এসেছি আমাদের আত্মপরিচয়কে স্মরণ করতে, আমাদের ইতিহাসকে নতুন করে উচ্চারণ করতে। কারণ এই স্বাধীনতা হঠাৎ করে আসেনি; এটি অর্জিত হয়েছে অগণিত শহীদের রক্তে, মা-বোনের ত্যাগে, আর এক মহান নেতা বঙবন্ধুর অবিচল সাহসী নেতৃত্বে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, আজও কিছু অপশক্তি, কিছু বিভ্রান্ত চেতনা আমাদের সেই গৌরবময় ইতিহাসকে মুছে দিতে চায়। তারা আঘাত হানতে চায় আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়, ধ্বংস করতে চায় আমাদের স্মৃতির ভিত্তি। কিন্তু আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে ইতিহাস রক্তে লেখা, তা কখনো মুছে ফেলা যায় না; যে সত্য আত্মত্যাগে নির্মিত, তা কখনো পরাজিত হয় না।
হলভর্তি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি যেন পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়। এতে রাজনীতিক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সুপরিচিত ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। সবার অংশগ্রহণে প্রবাসের মাটিতে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়ছোঁয়া আবহ, যেখানে স্বাধীনতার গান আর স্মৃতির আবেগ মিলেমিশে হয়ে ওঠে এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।
গান, স্মৃতিচারণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে লন্ডনের এই আয়োজন যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়, বাংলাদেশ কেবল একটি ভৌগোলিক সীমানা নয়; এটি ত্যাগ, সংগ্রাম এবং অদম্য আত্মমর্যাদার এক ইতিহাস। আর সেই ইতিহাস বুকে ধারণ করেই প্রবাসী বাংলাদেশিরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন স্বাধীনতার চেতনাকে।



