নরসিংদীতে ইউপি চেয়ারম্যানকে গুলি করে হত্যা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ ডিসেম্বর ২০২২, ৭:৩৯:৫৩
নরসিংদী প্রতিনিধি : নরসিংদীর রায়পুরায় প্রকাশ্যে গুলি করে মির্জাচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিককে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। তিনি মির্জাচর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতিও ছিলেন।
ইউনিয়নের শান্তিপুর বাজার থেকে শান্তিপুর স্কুলে একটি সভায় যাওয়ার পথে আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী শটগান দিয়ে খুব কাছ থেকে তাকে গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।
পরে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত ঢাকা নেওয়ার কথা বলেন। চিকিৎসকের কথামতো আহত চেয়ারম্যানকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার পথে প্রথমে সাহেপ্রতাপ ও পরে মাধবদীতে পুলিশ তাঁদের অ্যাম্বুলেন্স তল্লাশি করে বলে জানায় চেয়ারম্যানের শ্যালক এরশাদ সরকার।
এরশাদ জানায়, আজ শনিবার বিকেলে রায়পুরায় দুর্গম চরাঞ্চল মির্জাচর ইউনিয়নের শান্তিপুর স্কুল মাঠে যাওয়ার পথে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপর আতঙ্কে উপস্থিত লোকজন দিগ্বিদিক ছুটে যায়। খবর পেয়ে রায়পুরা থানাপুলিশ ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন নিহত চেয়ারম্যান মানিকের ভাই বারসন মিয়া। তিনি জানান, পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষরা তাকে গুলি করে হত্যা করেছে।
নিহত জাফর ইকবাল মানিক মির্জাচর গ্রামের মৃত আব্দুল মোতালিব মিয়ার ছেলে। তিনি টানা দুইবার মির্জাচর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। একই ইউনিয়নের যুবলীগ সভাপতি তিনি।
মির্জাচর ইউনিয়নের ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক স্বাধীন খান রুবেল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সাবেক চেয়ারম্যান ফারুকুল ইসলাম ও নিহত চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিকের মধ্যে দ্বন্ধ চলে আসছিল।
ঝগড়া ও দ্বন্ধের জেরে ফারুকুল ইসলাম ও তার সমর্থকরা এলাকা ছাড়া হয়ে পড়ে। সম্প্রতি তারা এলাকায় ফিরে আসে। এরই মধ্যে গেল শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ মীমাংসা হওয়ার কথা ছিল এবং তারা বসছিল। কিন্তু ফারুক সমর্থকরা তা না মেনে আগামী শুক্রবার মীমাংসার তারিখ নির্ধারণ করতে চায়। এ নিয়ে গতকাল শুক্রবার তাদের দুই সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটিও হয়।
এরই মধ্যে আজ শনিবার বিকেলে সাবেক চেয়ারম্যান জাফর ইকবাল মানিক শান্তিপুর স্কুলের একটি প্রোগামে যোগ দেওয়ার পথে সেখানে তাকে তিনজন সন্ত্রাসী গুলি করে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তবরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুরা সার্কেল) সত্যজিত ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক চেয়ারম্যান গুলিবিদ্ধ হয়েছে। কিন্তু মারা যাওয়ার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।
তাকে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতাল ও পরে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। আমরা এলাকার যাচ্ছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।





