মিতু হত্যা : জবানবন্দি দিলেন মুছার স্ত্রী
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মে ২০২১, ১১:১৬:১২
চট্টগ্রামে আলোচিত মাহমুদা আক্তার মিতু হত্যা মামলার পলাতক আসামি কামরুল ইসলাম শিকদার মুছার স্ত্রী পান্না আক্তার আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান মো: রেজার কাছে পান্না আক্তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
নিহত মিতুর বাবা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি পুলিশের সাবেক এসপি বাবুল আক্তারের ‘সোর্স’ ছিলেন মুছা। মামলার আসামিও তিনি।
এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো অঞ্চলের পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘পান্না আক্তার সাক্ষী হিসেবে ১৬৪ ধারায় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার সাথে তার স্বামী মুছার সম্পৃক্তার বিষয়ে বলেছেন।’
তবে পান্না আক্তার জবানবন্দিতে কী কী বলেছেন, তা জানা যায়নি।
মুছা এখনো পলাতক বলে জানান এই পিবিআই কর্মকর্তা; যদিও তার স্ত্রীর দাবি, পাঁচ বছর আগে মিতু হত্যাকাণ্ডের পর তাকে পুলিশ পরিচয়ে ধরে নেয়া হয়েছিল।
২০১৬ সালের ৫ জুন বন্দরনগরীর জিইসি মোড়ে ছেলেকে স্কুল বাসে তুলে দিতে যাওয়ার সময় খুন হন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রী মিতু।
পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ সদরদফতরে যোগ দিতে ওই সময় ঢাকায় ছিলেন বাবুল। হত্যাকাণ্ডের পর চট্টগ্রামে ফিরে পাঁচলাইশ থানায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজনকে আসামি করে তিনি মামলা করেন।
ওই হত্যাকাণ্ডের জন্য শুরুতে উগ্রবাদীদের সন্দেহ করা হলেও ২৬ জুন মো: মোতালেব মিয়া ওরফে ওয়াসিম ও মো: আনোয়ার নামে দুজনকে গ্রেফতারের পর তদন্তকারীরা বলেছিলেন, খুনিরা ‘পেশাদার অপরাধী’।
ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও দেখে পুলিশ যাদের চিহ্নিত করেছিল, তাদের একজন হলেন বাবুলের ‘সোর্স’ মুছা। আদালতে ওয়াসিমের দেয়া জবানবন্দিতেও মুছার নাম এসেছিল।
২০২০ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি আসে পিবিআইয়ের হাতে। এরপর গত ১১ মে মামলার বাদি বাবুল আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে নিয়ে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পিবিআই।
পরদিন ১২ মে পিবিআই প্রধান সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, বাবুল নিজেই তার স্ত্রীকে হত্যার সাথে জড়িত।
এরপর বাবুলের করা মামলাটিতে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
আর বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ হোসেন পাঁচলাইশ থানায় নিজের জামাতাকে প্রধান আসামি করে আটজনের নামে নতুন একটি হত্যা মামলা করেন।
নতুন মামলায় বাবুলের ‘সোর্স’ মুছাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়। আসামির তালিকায় নাম থাকা মুছার বড়ভাই সাইফুল আলম শিকদার সাক্কুকেও পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
পান্নার দাবি, ২০১৬ সালের ২২ জুন সকালে বন্দরনগরীর কাঠগড় এলাকার একটি বাসা থেকে তার স্বামীকে পুলিশই তুলে নিয়ে যায়।





