কাদের মির্জাকে দল থেকে ‘অব্যাহতি’ ও ‘বহিষ্কার’ নিয়ে ধূম্রজাল
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১:২৪:০০
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুল কাদের মির্জাকে বহিষ্কারের সুপারিশ এবং সংগঠনের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এএইচএম খায়রুল আনাম সেলিম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী।
শনিবার রাত ৯টা ২৫ মিনিটে মুঠোফোনে একরামুল করিম চৌধুরী এমপি জানান, অব্যাহতির বিষয় এখনো বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে খায়রুল আনম সেলিম রাত ১০টায় সাংবাদিকদের জানান, প্রথমে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে দলীয় শান্তি বজায় রাখতে আমি সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছি। যেহেতু বিষয়টি নেত্রীর কাছে পেন্ডিং আছে এবং আমি মনে করি আমাদের অব্যাহতিরও এখতিয়ার নেই।
এদিকে, ফেসবুক লাইভে রাত ৯টা ২৫ মিনিটে এসে নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, একজন লোক অপরাধী। মির্জা কাদের শুধু নোয়াখালী নয়, সারা দেশের আওয়ামী লীগকে ছোট করেছে, তাকে তো ছাড়া যায় না। তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছি। আমার সভাপতি কী বলেছেন আমি জানি না। তিনি নাকি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তিনি আমাকে দিয়ে নির্দেশনা দিলেন আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন, এখন তো তিনিও নীতিহীন হয়ে গেলেন। কাদের মির্জার অব্যাহতি অব্যাহত রেখেছি। এ ধরনের লোকদের দলের অবস্থানে রাখা উচিত না। সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি তার অব্যাহতি বহাল রইল।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে সংগঠনের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই কাদের মির্জাকে দলীয় গঠনতন্ত্রপরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের জন্যও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে সুপারিশ করা হয়।
শনিবার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী এমপি স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তর কথা জানানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি কাদের মির্জাকে দল থেকে বহিষ্কারের সুপারিশের চিঠির সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বিষয়টিকে ‘সেনসিটিভ’ হিসেবে অবহিত করে এ বিষয়ে আর কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ প্রেরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি হুবহু তুলে ধরা হলো –‘বিগত কয়েক সপ্তাহ থেকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র জনাব আবদুল কাদের মির্জা দলীয় নেতা–কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে গুরুতরভাবে আহত করায় এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ সম্পর্কে মিথ্যা অশালীন বক্তব্য ও আপত্তিকর উক্তি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে সংগঠন বিরোধী অশোভনীয় মন্তব্য ও নেতা–কর্মীদের হুমকি প্রদান করার অভিযোগে আব্দুল কাদের মির্জাকে সংগঠনের সকল কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।’
‘সংগঠন বিরোধী উল্লেখিত কারণ ও দলীয় গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আব্দুল কাদের মির্জাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ সুপারিশ পেশ করা হয়।’
এই বিষয়ে জানতে শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ২৯ মিনিটে আবদুল কাদের মির্জার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।





