নিজের ছবিসহ ২৫০ ডলারের নতুন নোট চালু করতে চান ট্রাম্প
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মে ২০২৬, ১২:৪৭:২৯

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত সম্পূর্ণ নতুন একটি ‘২৫০ ডলারের ব্যাংকনোট’ চালুর জন্য পর্দার আড়ালে জোর তদবির চালাচ্ছেন ট্রাম্প-নিযুক্ত শীর্ষ কর্মকর্তারা। তবে এই রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে মার্কিন অর্থ বিভাগ বা ট্রেজারির ভেতরে তীব্র অসন্তোষ ও শীর্ষ কর্মকর্তার পদচ্যুতির মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’- রএর হাতে আসা এই প্রস্তাবিত নোটের একটি খসড়া বা প্রতিকৃতিতে (মক-আপ) দেখা গেছে, বিলটির ঠিক মাঝখানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রয়েছে এবং এর সাথে ‘250 AMERICA’ কথাটি লেখা রয়েছে।
অনুরূপ একটি ডিজাইন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করেছিলেন কেনটাকির রিপাবলিকান প্রতিনিধি অ্যান্ডি বার। সেখানে তাঁকে ইউএস ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ- এর সাথে ২৫০ ডলারের একটি বিশাল আকারের ডামি নোট ধরে থাকতে দেখা যায়।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্র্যান্ডন বিচ ট্রাম্পের এমন একজন মনোনীত কর্মকর্তা, যিনি ট্রেজারির নোট মুদ্রণকারী সংস্থা ‘ব্যুরো অব এনগ্রেভিং অ্যান্ড প্রিন্টিং’ (বিইপি)- এর কর্মীদের এই বিলটি তৈরির কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার জন্য বারবার তাগিদ দিয়েছেন।
রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যান্ডি বারের শেয়ার করা সেই নোটের নকশাকার ব্রিটিশ চিত্রশিল্পী ইয়ান আলেকজান্ডার ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ডিজাইনটি “ভীষণ পছন্দ করেছেন’।
ট্রাম্পের এই ইচ্ছা পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আইন। মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী, কোনো জীবিত ব্যক্তির ছবি দেশের মুদ্রায় স্থান পেতে পারে না। ১৮৬৬ সালে একজন মাঝারি স্তরের ট্রেজারি কর্মকর্তার ছবি ৫ সেন্টের নোটে ছেপে যাওয়ার পর— এক আইনি আদেশের মাধ্যমে জীবিত ব্যক্তিদের ছবি মুদ্রায় ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।
এ বিষয়ে ট্রেজারির একজন মুখপাত্র সংবাদপত্রটিকে জানিয়েছেন যে, প্রিন্টিং এজেন্সি ২৫০ ডলারের এই বিলটির বিষয়ে উপযুক্ত পরিকল্পনা ও যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘যদি এই সংক্রান্ত আইনি প্রস্তাব বা বিল পাস হয়ে আইনে পরিণত হয়, তাহলেই আমাদের মহান দেশের ২৫০তম বার্ষিকীকে যথাযথভাবে স্বীকৃতি দিতে— বিইপি একটি ২৫০ ডলারের স্মারক নোট তৈরিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।’
তবে এই সংস্থার সাবেক পরিচালক ল্যারি আর. ফেলিক্স জানিয়েছেন, মার্কিন কংগ্রেসের বিশেষ আইন ছাড়া ২৫০ ডলারের কোনো নোট তৈরি করার সংবিধিবদ্ধ কর্তৃত্ব বা অধিকার নেই এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্টকেও প্রথমে এই কাজের আইনি ক্ষমতা দিতে হবে। যদিও ট্রেজারির মুখপাত্র দাবি করেছেন যে, ব্র্যান্ডন বিচ কংগ্রেসের অনুমোদনের আগে নোটটি সরাসরি ছাপানোর জন্য কর্মীদের কখনো বলেননি।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের বর্তমান ও সাবেক কর্মীরা জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ নতুন একটি ব্যাংকনোটের ডিজাইন ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিশ্চিত করে তা বাজারে ছাড়তে সাধারণত ৬ থেকে ৮ বছর সময় লাগে— বিশেষ করে এত উচ্চ মূল্যের নোটের ক্ষেত্রে তা আরও বেশি সময় সাপেক্ষ। এর আগে ট্রাম্পের অবয়বযুক্ত সোনার কয়েন চালুর যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেটিও আমেরিকার ২৫০তম জন্মদিনের (জুলাই ২০২৬) মধ্যে তৈরি হওয়া অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।
সংস্থার একজন কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘এই লোকগুলো মনে করে রাতারাতি একটা কিছু ডিজাইন করে ছেপে দিলেই হলো এবং সেটা এটিএম বুথে কাজ করতে শুরু করবে। এটা স্রেফ পাগলামি। জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য একটি নোট তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লেগে যায়।’
এই ব্যাংকনোট প্রিন্টিং ব্যুরোর দীর্ঘদিনের পরিচালক প্যাটি সলিমেন- কে গত এপ্রিলের শেষের দিকে তাঁর পদ থেকে আকস্মিকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। জানা গেছে, তিনি এবং তাঁর অধীনস্থ অন্য কর্মীরা যখন ইউএস ট্রেজারার ব্র্যান্ডন বিচ ও তাঁর সিনিয়র উপদেষ্টা মাইক ব্রাউনকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলেন, এই ২৫০ ডলারের নোটটি তৈরি করতে বছরের পর বছর সময় লাগবে এবং এটি করার কোনো আইনি অনুমোদন তাদের নেই। তার পরপরই ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।
সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক বিদায়ী ইমেইল বার্তায় সলিমেন লিখেছেন, ‘আমি কখনো আমার নিজের বা আমার প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ ও চরিত্রের সাথে আপস করিনি। সব শেষ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বটি আমারই ছিল।’
ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত এই মুদ্রা চালুর জন্য আইনি লড়াই অবশ্য অনেক আগে থেকেই চলছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি জো উইলসন ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ২৫০ ডলার বিল অ্যাক্ট’ নামে একটি বিলের খসড়া তৈরি করেছিলেন, যা পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের— হাউস ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস কমিটিতে পাঠানো হলেও এপর্যন্ত কোনো শুনানির মুখ দেখেনি। তবে উইলসনের কার্যালয় ওয়াশিংটন পোস্টকে জানিয়েছে যে, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও ট্রাম্প এই বিলটির বিষয়ে উইলসনের সাথে একাধিকবার কথা বলেছেন এবং এর প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।



