মালদ্বীপকে উড়িয়ে সাফের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ নারী দল
প্রকাশিত হয়েছে : ২৯ মে ২০২৬, ১২:৪৫:৩৬

গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের বাইরে থেকে বোঝার উপায় নেই যে ভেতরে কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট চলছে। নেই কোনো প্রচার-প্রচারণা কিংবা সমর্থকদের আনাগোনা। খাঁ খাঁ করা এমন দর্শকহীন গ্যালারির ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী দলের পারফরম্যান্সও ছিল বেশ ম্যাড়মেড়ে। মালদ্বীপের বিপক্ষে বড় জয়ের আভাস দিয়েও শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলের এক কষ্টার্জিত জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মারিয়া মান্দার দল। তবে এই এক জয়েই সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে গত দুই আসরের চ্যাম্পিয়নদের।
এর আগে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ভারতের কাছে ১১-০ ব্যবধানে হেরেছিল মালদ্বীপ। টানা দুই হারে টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় ঘটায় এক ম্যাচ হাতে রেখেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত হলো বাংলাদেশের। আগামী ৩১ মে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াইয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরুটা ছিল রূপকথার মতো। রেফারি বাঁশি বাজানোর ঠিক ১১ সেকেন্ডের মাথায় লিড নেয় বাংলাদেশ। কিক অফের পর বাঁ দিক থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার বাড়ানো নিচু ক্রস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন সুইডেন প্রবাসী ফরোয়ার্ড আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি তার প্রথম গোল। ম্যাচের ৩ মিনিটে অলিম্পিক গোল পেতে পারতেন ঋতুপর্ণা, কিন্তু তার বাঁকানো কর্নার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর ২৮ মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের শটও ক্রসবারে লেগে প্রতিহত হয়।
ম্যাচের ৩৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রসে জোরালো নিচু শটে গোল করেন উমেহ্লা মারমা। তবে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর হুট করেই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
দুই গোল হজমের পরপরই ঘুরে দাঁড়ায় মালদ্বীপ। মাঝমাঠে অধিনায়ক মারিয়া মান্দার এক ভুল পাস ধরে মালদ্বীপের মরিয়ম নোরা দূরপাল্লার এক শটে গোল করেন। এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ গোলরক্ষক মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ায়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রক্ষণের ভুলে আরও বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ৫৬ মিনিটে সেন্টার ব্যাক আফঈদা খন্দকার যথেষ্ট সময় পেয়েও মালদ্বীপের উইঙ্গার আমিনাথ ফাজলাকে বাধা দিতে ব্যর্থ হন। সুযোগ বুঝে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে গোলরক্ষক মিলিকে পরাস্ত করে ম্যাচে ২-২ সমতা ফেরান ফাজলা।
ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার শঙ্কায় কোচ পিটার বাটলার উমেহ্লা ও আনিকাকে তুলে মাঠে নামান শাহেদা আক্তার রিপা ও তহুরা খাতুনকে। খেলোয়াড় পরিবর্তনের পর আক্রমণের ধার বাড়ে। ৬৪ মিনিটে বাঁ দিক থেকে ঋতুপর্ণার ক্রস মালদ্বীপের গোলরক্ষকের গ্লাভস গলে বেরিয়ে গেলে সামনে থাকা সাগরিক প্রীতি নিখুঁত শটে গোল করে বাংলাদেশকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। আর ম্যাচের শেষ মিনিটে কোহাতি কিসকু চতুর্থ গোলটি করলে ৪-২ ব্যবধানের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।




