বালাগঞ্জে কুশিয়ারার ভাঙ্গনে নদীতে ধ্বসে পড়েছে সড়ক ও সেতু
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ মে ২০২৫, ১:৫৯:২২
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার অন্যতম দীর্ঘতম সড়ক খসরুপুর জিসি বালাগঞ্জ সড়কের ফাজিলপুর এলাকায় কুশিয়ারা পাড়ের ভাঙ্গনে নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে সড়ক ও সেতু। সড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় এই অঞ্চলের জনসাধারণ যাতায়াতে চরম বিপাকে পড়েছেন। রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় দুর্ঘটনা এড়াতে লাইন বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে। বুধবার (৭ মে) সকাল ৮টার দিকে ভয়াবহ এ ভাঙ্গনের ঘটনা ঘটে।
এ ভাঙ্গনের কারণে স্থানীয় পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের সাথে উপজেলা সদরের সড়ক যোগযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ এলাকার বিভিন্ন গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। আরও ভাঙ্গনের আশঙ্কায় তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিক, এলাকাবাসী জরুরিভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, সম্প্রতি খসরুপুর জিসি বালাগঞ্জ সড়কের বিভিন্নস্থানে কুশিয়ারা নদীর ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এসব ভাঙ্গনের ধারাবাহিকতায় গত কয়েকদিন আগে উল্লেখিত সেতু এলাকায় ফাটল দেখা দেয়। প্রায় ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক দিয়ে বালাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর পর্যন্ত যোগাযোগ সংযুক্ত রয়েছে।
বুধবার (৭ মে) সকাল ৮টার দিকে আনুমানিক ১৪কিলোমিটার দূরবর্তী ফাজিলপুর গ্রামে এই সড়ক এবং সেতুটি নদীগর্ভে ধ্বসে পড়ার কারণে বালাগঞ্জ উপজেলা সদরের সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মামুনুর রশীদ, উপজেলা প্রকৌশলী মুহিবুল্লাহ, স্থানীয় পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা খেলাফত মজলিস নেতা সৈয়দ আলী আছগর, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম জিতু, উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উপজেলা জিয়া সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম রেজা, উপজেলা খেলাফত মজলিস নেতা মুহিবুর রহমান মিছলু, বালাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান জিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. আমির আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমদ, ঐয়া গ্রামের বিএনপি নেতা ইরান উদ্দিন, ইছাপুর গ্রামের পরান মিয়া, পৈলনপুর গ্রামের চেরাগ আলী, ফাজিলপুর গ্রামের হাফিজ মিয়া, মো. ছাবির মিয়া, ইসলামী ছাত্রশিবির বালাগঞ্জ উপজেলা (দক্ষিণ) শাখার সভাপতি আবিদ আলী প্রমুখ বুধবার বিকালে দুর্যোগকবলিত ধ্বসে পড়া সড়ক ও সেতু এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
জানা যায়, গত বছরের নভেম্বর মাসে ভাঙন শুরু হলে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলার প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিয়ে বিগত কয়েকদিন আগে শুধু মাটি ও পলি ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ভরাট করে দেওয়া হয়। কালভার্ট ও সড়ক রক্ষায় জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় কয়েকদফা সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং গত ২৮ এপ্রিল স্থানীয় সরকার সিলেটের উপপরিচালক সুবর্ণা সরকার পরিদর্শনে আসেন কিন্তু প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষমেশ রক্ষা হলো না রাস্তা ও কালভার্ট।
স্থানীয়রা জানান, সড়কটিতে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর উপজেলার হাজার হাজার মানুষ উপজেলা ও জেলা সদর এবং বিভিন্ন হাটবাজারে চলাচল করে থাকেন। ব্যবসায়ীরা উপজেলা সদরের বালাগঞ্জ বাজার থেকে মালামাল পরিবহন করে থাকেন। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় অনেক স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের শিকার হবেন। সড়কপথে চলাচল করতে না পেরে অনেকে বিকল্প হিসেবে পথ না থাকায় যাতায়াতে বিপদে পড়ছেন। ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী সমাধান চাচ্ছেন এলাকাবাসী। কুশিয়ারা নদীর তীরবর্তী ভাঙ্গন রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডেকে বড় প্রকল্প হাতে নিতে হবে।
এ বিষয়ে আলাপকালে উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ আলী আছগর, বালাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম জিতু, উপজেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উপজেলা জিয়া সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ সেলিম রেজা, খেলাফত মজলিস নেতা মুহিবুর রহমান মিছলু, বালাগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান জিলু, সাধারণ সম্পাদক মো. আমির আলী, সহ সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমদ, ঐয়া গ্রামের বিএনপি নেতা ইরান উদ্দিন, ইছাপুর গ্রামের পরান মিয়া, পৈলনপুর গ্রামের চেরাগ আলী, ফাজিলপুর গ্রামের হাফিজ মিয়া, মো. ছাবির মিয়া, ইসলামী ছাত্রশিবির বালাগঞ্জ উপজেলা (দক্ষিণ) শাখার সভাপতি আবিদ আলী প্রমুখ কুশিয়ারা নদীর আরও ভাঙ্গনের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
এ ব্যাপারে আলাপকালে পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন জানান, সম্প্রতি ফাজিলপুরসহ এই এলাকায় নদী ভাঙ্গন শুরু হলে বালাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এরপরও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বড় ধরণের এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, স্থানীয় হামছাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আরও ভাঙ্গনের আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে আলাপকালে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সরকার মামুনুর রশীদ বলেন, আরও ভাঙ্গনের প্রতিরোধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। বালাগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে ওসমানীনগরের শেরপুর পর্যন্ত দীর্ঘ এই সড়ক যোগাযোগ পুনস্থাপনের মাধ্যমে দুর্ভোগ লাঘবে আমরা জোর চেষ্টা করছি।