বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিতে জামায়াত আমিরের আহ্বান
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ মার্চ ২০২৬, ১:২১:৩৮

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর আগের দিন বিএনপিকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।
একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ডেপুটি স্পিকারের পদ খণ্ডিতভাবে নিতে চায় না তার দল। বরং জুলাই সংস্কার প্রস্তাব পুরোপুরি বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই বিরোধী দলের প্রাপ্য পদ গ্রহণ করতে চায় জামায়াত।
বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধী জোটের সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান তিনি। শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করা হবে কিনা— এ প্রশ্নে সরাসরি কোনো জবাব দেননি জামায়াত আমির। তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংসদ অধিবেশনেই বিরোধী দলের অবস্থান ‘দৃশ্যমান’ হবে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনকে সামনে রেখে বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যদের এ বৈঠকে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিরোধী দল হিসেবে তাদের ভূমিকা কী হবে— তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর ও অর্থবহ ভূমিকা পালন করুক। আমরা আগেই পরিষ্কার করেছি, বিরোধী দল হিসেবে আমরা একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে চাই।’
জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘আমাদের অবস্থান হলো— বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, আবার না বুঝে সহযোগিতাও নয়। দেশের কল্যাণে সরকারি দলের যেকোনো ইতিবাচক সিদ্ধান্তে বিরোধী দল সমর্থন ও সহযোগিতা করবে। তবে দেশ ও জনগণের ক্ষতি হয় এমন সিদ্ধান্ত নিলে প্রথমে ভুল ধরিয়ে দেওয়া, সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে প্রতিবাদ জানানো হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদে কাজ না হলে জনগণের অধিকারের পক্ষে আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়াব। তবে আমরা চাই প্রথম ধাপেই সমস্যার সমাধান হোক।’
সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসুন জুলাইকে সম্মান করি। চব্বিশ থাকলেই ছাব্বিশ হবে। চব্বিশকে অমান্য করে ছাব্বিশ জাতির জন্য কোনো সুখবর বয়ে আনবে না।’
ডেপুটি স্পিকারের পদ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপি অনানুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তাদের ধন্যবাদ, তবে আমরা খণ্ডিতভাবে কিছু চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সংস্কারের যে প্রস্তাব রয়েছে, সেটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হোক। ওই প্রস্তাবেই বলা আছে যে একজন ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবেন।’
রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট করা হবে কিনা— এ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘কালকে আমাদের ভূমিকা দৃশ্যমান হবে। যেমন সূর্য উঠবে, তেমন ভাষণ শুনবেন এবং আমাদের ভূমিকাও দেখবেন।’
এর আগে সংসদ প্রাঙ্গণেই সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে স্বৈরাচারের দোসর আখ্যা দেন জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের।
এ বিষয়ে তাহের বলেন, ‘আমরা মনে করি, রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার কোনো অধিকার নাই। স্বৈরাচারের দোসর… বিএনপি কেন যে তাকে দিয়ে ভাষণ দেওয়াচ্ছে, এটা আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়।’
এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন সময়ে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউট করবেন কিনা— এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত জামায়াতের এক সংসদ সদস্য গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যাপারেই হটকারী সিদ্ধান্ত নেব না।’



