দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রথম করোনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ জুন ২০২০, ১২:২৬:০৮
সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জে করোনায় আক্রান্ত লালন মিয়া (৪৯) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বিকেলে সিলেট শহীদ শামসুদ্দীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি । লালন মিয়া উপজেলার পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা। এনিয়ে সুনামগঞ্জ জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ জনে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জসিম উদ্দিন জানান, লালনই প্রথম দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, গত ৯ জুন লালন মিয়ার রিপোর্টে করোনা পজিটিভ আসে। পরবর্তীতে তাকে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের আইসোলোশনে চিকিৎসা দেয়া হয়। ১০ জুন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান তিনি ।
সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. শামস উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া লালন মিয়ার লাশ সিলেট থেকে দক্ষিণ সুনামগঞ্জে নিয়ে আসা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে দাফন করা হবে।
প্রসঙ্গত, ৭ জুন (রোববার) করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যান জামালগঞ্জ উপজেলার সাচনাবাজারের পঙ্কজ পাল চৌধুরী। ওইদিন তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হলে স্বজনরা প্রথমে জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক করোনাভাইরাসের নমুনা রেখে তাকে সিলেট রেফার করেন। ওইদিন সিলেট যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে বৃহস্পতিবার তার করোনা টেস্টের ফলাফল পজেটিভ আসে। তবে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগী ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (৬ জুন) ছাতক উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ছড়ারপাড় (গণেশপুর) নিজ বাড়িতে মারা যান হিরা মিয়া। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে সিলেট নর্থ-ইস্ট মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একই উপজেলার বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী পিয়ারা মিয়া। এর আগে ১ জুন দুপুরে সিলেট শামস উদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান একই উপজেলার জাউয়াবাজার ইউনিয়নের রাউলী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক।
গত ১২ এপ্রিল জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলায় প্রথম করোনা আক্রান্ত হন এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রী। তবে, তিনিই প্রথম সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।